পবিত্রতা পর্ব
মহান আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন, হে ঈমানদারগণ! যখন তোমরা সালাত পড়তে
ইচ্ছা কর, তখন তোমরা (পবিত্রতা অর্জনের লক্ষ্যে) তোমাদের মূখমন্ডল এবং হাতসমূহ
কনুইসহ ধৌত কর, আর তোমাদের মাথাসমূহ মাসাহ কর এবং পাগুলো গোড়ালীসহ ধৌত কর। কাজেই
পবিত্রতা বা অযুর ফরজ তিনটি অঙ্গ ধৌত করা এবং মাথা মাসাহ করা।
আর আমাদের তিনজন উলামা তথা ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউছুফ ও ইমাম
মুহাম্মদ (রঃ) এর মতে- উভয় কনু এবং উভয় টাখনু ধৌত করা ফরজের অন্তর্ভূক্ত। কিন্তু
ইমাম যুফার (রঃ) এতে দ্বিমত প্রকাশ করেন। মাথা মাসাহের ফরজ হল- কপাল পরিমাণ, আর তা
হল মাথার এক চতুর্থাংশ। কেননা হযরত মুগীরা ইবনে শু’বা (রাঃ) বর্ণনা করেছেন যে, নবী
করিম (দঃ) একবার কোন এক সম্প্রদায়ের ময়লা-আবর্জনা ফেলবার স্থানে গিয়ে পেশাব করলেন,
এরপর ওযু করলেন এবং কপাল পরিমাণ ও উভয় মৌজার উপর মাসাহ করলেন।
ওযুর সুন্নাত ও মুস্তাহাবসমূহ
ওযুর সুন্নাতসমূহঃ
১. ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে পানির পাত্রে হাত প্রবেশ করার পূর্বে হস্তদ্বয়
তিনবার ধৌত করা। ২. ওযুর শুরুতে বিছমিল্লাহ বলা। ৩. মিসওয়াক করা। ৪. কুলি করা। ৫. নাকে
পানি দিয়ে পরিস্কার করা। ৬. দুই কান মাসাহ করা। ৭. দাড়ি খিলাল করা। ৮. আঙ্গুলসমূহ
খিলাল করা। ৯. প্রত্যেক অঙ্গ তিনবার করে ধৌত করা।
ওযুর মুস্তাহাবসমূহঃ
১. পবিত্রতা অর্জনের নিয়ত করা। ২. সম্পূর্ণ মাথা মসেহ করা। ৩. ওযুতে
নিয়মতান্ত্রিকতা অনুসরণ করা তথা আল্লাহ তায়ালা তার কুরআনে যেভাবে শুরু করেছেন সেই
তারতিব অনুযায়ী ওযু আরম্ভ করবে। ৪. ডানদিক হতে শুরু করা। ৫. পরপর ধৌত করা তথা এক
অঙ্গ শুকবার পূর্বে অন্য অঙ্গ ধৌত করা। ৬. ঘাট মাসাহ করা।
অযু ভঙ্গের কারণসমূহঃ
১. উভয় পথ তথা পায়খানা-প্রস্রাবের রাস্তা দিয়ে কোন বস্তু বাহির হওয়া। ২.
শরীরের কোন স্থান হতে রক্ত, পূজ, যখমের পানি বাহির হয়ে এমন স্থানে পৌছল যা পবিত্র করণের
হুকুম রয়েছে। ৩. বমি যখন মুখ ভরে হয়। ৪. কাত হয়ে নিদ্রা যাওয়া। ৫. বালিশের উপর
শুয়ে নিদ্রা যাওয়া। ৬. এমন বস্তুর সাথে হেলান দিয়ে ঘুম যাওয়া যা সরালে সে পড়ে
যাবে। ৭. অজ্ঞান বা মস্তিষ্ক বিকৃতিবশত জ্ঞানহারা হলে। ৮. রুকু সিজদা বিশিষ্ট
সালাতে উচ্চ স্বরে হা হা করে হাসিলে।
No comments:
Post a Comment