হায়েযের অধ্যায়
হায়েযের সর্বনিম্ন সময়সীমা তিনদিন তিনরাত। যা এর কম সময়ে হবে তা হায়েয নয়;
বরং তা ইসতিহাযা। রক্তস্রাবের সর্বোচ্চ সময় দশদিন। যে রক্ত এর চেয়ে বেশি সময়ে হয়
তা ইসতিহাযা। হায়েযের দিনসমূহে লাল, হলুদ এবং মাটিয়া রং এর যা কিছু মহিলা দেখবে তা
সবয় হায়েয, খাঁটি সাদা রং দেখা পর্যন্ত। ঋতুস্রাব ঋতুবতী মহিলার উপর সালাত রহিত
করে দেয় এবং সাওম হারাম করে দেয়। পরে সাওম কাযা আদায় করবে, কিন্তু সালাত কাযা পড়বে
না। ঋতুকালীন সময়ে মেয়েলোক মসজিদে প্রবেশ করবে না এবং কা’বা ঘর তাওয়াফ করবে না, আর
স্বামী তার সাথে সহবাস করবে না। ঋতুবতী মহিলা ও গোসল ফরয হয়েছে এরূপ ব্যক্তির
কুরআন পাঠ করা জায়েয নেয়।
মুহদিছ তথা যার ওযু নেই এমন ব্যক্তির কুরআন স্পর্শ করা জায়েয নেই, তবে
গিলাফ তথা আচ্ছাদনীর দ্বারা ধরা জায়েয আছে। যদি দশ দিনের কমে হায়েযের রক্ত বন্ধ
হয়ে যায়, তবে গোসল করা বা পূর্ণ এক ওয়াক্ত সালাতের সময় অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত তার
সাথে সহবাস করা জায়েয নেয়। আর যদি দশদিন পরিপূর্ণ হবার পর রক্ত বন্ধ হয়ে যায়, তবে
গোসলের পূর্বে তার সাথে সহবাস করা জায়েয।
হায়েযের মুদ্দাতের সময়ে দুই রক্তের মাঝে যে তুহর বা পবিত্রতা ফারাক সৃসষ্টি
করবে তা প্রবহমান রক্তের মতোই গণ্য হবে। আর পবিত্রতার সর্বনিম্ন সময় সীমা হল পনের
দিন, বেশির কোন সীমা নেই। ইসতিহাযার রক্ত হল যা তিন দিনের কম সময়ে এবং দশ দিনের কম
সময়ে মহিলা দেখে। এর হুকুম হল নাকসীরের হুকুম। এটা সালাত, সাওম এবং সহবাসকে বাধা
প্রদান করবে না। যদি রক্তস্রাব দশ দিনের বেশি হয় এবং সে মহিলার হায়েযের নির্দিষ্ট
সময়সীমা রয়েছে, তাহলে তাকে নির্দিষ্ট অভ্যাস মতো সময়ের দিকে ফেরানো হবে। আর
নির্দিষ্ট সময়ের অতিরিক্ত যা হয় তা ইসতিহাযা হিসেবে পরিগণিত হবে। যদি কোন মহিলার
বালেগ হওয়ার সাথে সাথে রোগাগ্রস্ত তথা ইসহাযায় আক্রান্ত হয়, তাহলে প্রত্যেক মাসে
দশদিন তার ঋতুস্রাব ধরতে হবে। আর বাকিগুলোকে ইসতিহাযা হিসেবে গণ্য করতে হবে।
ইসতিহাযার রোগিণী এবং যার অনবরত ফোটা ফোটা পেশাব ঝরে এবং যার সর্বদা নাক
হতে রক্ত পড়ে এবং এমন ক্ষত যা (বন্ধ হয়নি) থেকে সর্বদা রক্ত বা পুঁজ পড়ে, এরূপ
ব্যক্তিবর্গ প্রত্যেক সালাতের ওয়াক্তে ওযু করবে এবং সে ওযু দিয়ে উক্ত ওয়াক্তের
মধ্যে যত ইচ্ছা ফরয ও নফল সালাত পড়তে পারবে। কিন্তু সালাতের ওয়াক্ত চলে গেলে ওযু
বাতিল হয়ে যাবে, আর তাদের ওপর আবশ্যক হবে পরবর্তি সালাতের জন্য পুনরায় ওযু করা।
নিফাস হল, সন্তান প্রসব হওয়ার পর যে রক্ত বের হয়, আর গর্ভবর্তী যে রক্ত দেখবে এবং
মহিলা সন্তান প্রসবের পূর্বে যে রক্ত প্রত্যক্ষ করবে তাকে ইসতিহাযা বলা হয়।
নিফাসের নিম্নতম কোন সময়সীমা নেই, তবে ঊর্ধ্বতম সময়সীমা হল চল্লিশ দিন, আর এর
অতিরিক্ত যা হবে তা ইসতিহাযা হিসেবে গণ্য হবে। যদি কোন মহিলার চল্লিশ দিনের বেশি
স্রাব অতিক্রম করে অথবা এ নারী এর পূর্বেও সন্তান প্রসব করেছে এবং পূর্বে প্রসবের
তার একটি নির্দিষ্ট সময়ের অভ্যাস ছিল, তবে তার অভ্যাসের দিনগুলোর দিকে নিফাসের
মুদ্দাতকে ফেরানো হবে। আর যদি তার কোন নির্ধারিত অভ্যাস না থাকে, তবে তার নিফাস
চল্লিশ দিন (ধরতে) হবে। কোন মহিলা এক পেট হতে (জমজ) দু’টি সন্তান প্রসব করলে ইমাম
আবূ হানীফা ও ইমাম আবূ ইউসুফ (রহঃ)-এর মতে, প্রথম সন্তান প্রসবের পর হতে যে রক্ত
বের হবে তা থেকে নিফাস গণনা করা হবে। আর ইমাম মুহাম্মদ ও যুফার (রহঃ)-এর মতে,
দ্বিতীয় সন্তান প্রসবের পর হতে নিফাস ধরতে হবে।
No comments:
Post a Comment