নফল সালাতের অধ্যায়



নফল সালাতের অধ্যায়
সুবহে সাদিক উদিত হবার পর ফজরের দুই রাকআত সালাত পড়া সুন্নাত। যোহরের ফরযের পূর্বে চার রাকআত এবং পরে দুই রাকআত পড়া সুন্নাত। আসরের ফরযের পূর্বে চার রাকআত পড়া সুন্নাত, ইচ্ছা করলে দুই রাকআতও পড়তে পারবে। মাগরিবের ফরযের পর দুই রাকআত, ইশার ফরযের পূর্বে চার রাকআত এবং পরের চার রাকআত সুন্নাত, ইচ্ছা করলে দুই রাকআতও পড়তে পারে। আর দিনের নফলসমূহ ইচ্ছা করলে এক সালামে দুই রাকআত বা চার রাকআত পড়তে পারে, এর বেশি পড়া মাকরূহ। কিন্তু রাতের নফলের বেলায় ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ) বলেন, যদি এক সালামে আট রাকআত পড়ে তাহলেও জায়েয হবে, এর বেশি পড়া মাকরূহ। ইমাম আবূ ইউসুফ ও মুহাম্মদ (রহঃ) বলেন, রাতের নফল এক সালামে দুই রাকআতের বেশি পড়বে না।

(ফরয সালাতের) প্রথম দুই রাকআতে কিরাআত পড়া ওয়াজিব, (ফরয) শেষ দুই রাকআতে সে ইচ্ছাধীন; ইচ্ছা করলে সে সূরা ফাতিহা পাঠ করতে পারে, আর ইচ্ছা করলে চুপ করে থাকতে পারে, আর যদি সে চায় তবে তাসবীহ পাঠ করতে পারে। নফল এবং বিতিরের সকল রাকআতে কিরাআত পাঠ করা ওয়াজিব। কোন ব্যক্তি নফল সালাত শুরু করল এরপর ভেঙ্গে ফেলল, তখন উহা কাযা করতে হবে। আর যদি চার রাকআত নফল পড়া শুরু করে দুই রাকআতে (তাশাহুদ পরিমাণ) বসে তারপর শেষ দুই রাকআত নষ্ট করে ফেলে, তাহলে দুই রাকআত কাযা করবে। দাঁড়াবার ক্ষমতা থাকা সত্বেও বসে নফল সালাত পড়তে পারে। যদি দাঁড়িয়ে নফল আরম্ভ করবার পর বসে যায়, তাহলে ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ)-এর নিকট জায়েয হবে, আর সাহেবাইন বলেন, ওজর ব্যতীত জায়েয হবে না। কোন ব্যক্তি শহরের বাইরে (মুসাফির) থাকলে সওয়ারির ওপর বসে নফল সালাত পড়তে পারবে। যে দিকেই তার বাহন ফিরে যায় সে দিকে ফিরে ইশারা-ইঙ্গিতে সালাত পড়বে।

No comments:

Post a Comment