যে সকল পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন করা জায়েযঃ
১. আসমানের বৃষ্টির পানি। ২. উপত্যকার পানি। ৩. হ্রদ বা বিলের পানি। ৪.
ঝর্ণার পানি। ৫. কূপ ও সমুদ্রের পানি দ্বারা অপবিত্রতা হতে পবিত্রতা অর্জন তথা
অযু-গোসল সিদ্ধ হবে। ৬. ফল বা বৃক্ষ হতে নিংডানো বা চিবানো পানি দ্বারা পবিত্রতা
অর্জন অজু-গোসল জায়েজ হবে না এবং ঐ পানি দ্বারাও জায়েয হবে না যাতে অন্য বস্তু
প্রধান্য লাভ করে পানির স্বভাব থেকে তাকে বাহির করে দিয়েছে। যেমন- শরবত জাতিয়
পানীয় বস্তুসমূহ, সিরকা, শুরবা, তরিতরকারীর পানি, গোলাপের পানি এবং গাজরের পানি
ইত্যাদি। আর ঐ পানি দ্বারা পবিত্রতা অর্জন
জায়েয, যাতে কোন পবিত্র জিনিষ মিশ্রিত হয়ে পানির কোন একটি গুণ পরিবর্তন করে
দিয়েছে। যেমন- বন্যার পানি এবং ঐ পানি যাতে উশনান (এক জাতীয় ঘাস যা দ্বারা জামা
ধৌত করা যায়) সাবান ও জাফরান মিলিত হয়েছে।
পানিতে নাপাকি পড়লে তা পাক করার বিধানঃ প্রত্যেক আবদ্ধ পানি কম হোক বা বেশি
হোক যদি তাতে নাপাকি পতিত হয়, তবে তা দ্বারা ওযু করা জায়েয হবে না। কেননা নবী করিম
(দঃ) নাপাকী হতে পানিকে সংরক্ষণ করার জন্য নির্দেশ দিয়ে বলেছেন যে, তোমাদের কেও
যেন বদ্ধ পানিতে পেশাব না করে, আর তাতে যেন কেও অপবিত্রতার গোসল না করে। রাসুল
(দঃ) আরো বলেছেন- তোমাদের কেও নিদ্রা হতে জাগ্রত হলে তিনবার হাত ধৌত না করে পানির
পাত্রে হাত প্রবেশ করাবে না। কেননা সে জানে না যে, তার হাত রাতে কোথায় যাপন করেছে।
কিন্তু প্রবাহিত পানিতে নাজাসাত পতিত হলে যদি তার কোন চিহ্ন দেখিতে পাওয়া
না যায় তবে তাতে অযু জায়েয হবে। কেননা পানি প্রবাহের কারণে অপবিত্র বস্তু স্থির
থাকতে পারে না। আর বড় পুকুর যার এক পাশ্ব নাড়া দিলে অন্য পাশ্ব তথা পানি নড়ে
উঠেনা। যদি এর এক পাশে নাজাসাত পতিত হয় তবে অন্য পাশে অযু করা জায়েয। কেননা এটা
প্রকাশ্য যে, সেই কিনারাই নাপাকি পৌছেনি। পানিতে প্রবাহমান রক্তবীহিন প্রাণির
মৃত্যুতে পানিকে অপবিত্র করে না। যেমন- মশা, মাছি, ভিমরুল ও বিচ্ছু। আর পানিতে
বসবাবকারী প্রাণির মৃত্যুতেও পানিকে নষ্ট করে না। যেমন- মাছ, ব্যাঙ ও কাকড়া
ইত্যাদি।
অপবিত্রতাসমূহ হতে পবিত্রতা অর্জনের নিমিত্তে ব্যবহৃত পানি ব্যবহার করা
জায়েয নাই। মায়ে মস্তামালা বা ব্যবহৃত পানি ঐসব পানিকে বলা হয়, যা দ্বারা নাপাকি
দূর করা হয়েছে অথবা নৈকট্য অর্জনের জন্য শরীরে ব্যবহার করা হয়েছে।
শুকর ও মানুষের চামড়া ব্যতীত বাকী সকল কাঁচা চামড়া দাবাগত বা সংস্কার করার
দ্বারা পাক হয়ে যায়। তাতে সালাত পড়া এবং তাতে রক্ষিত পানি দ্বারা অযু করা জায়েয।
আর মৃত্যের পশম ও হাড় পবিত্র।
যদি কোন কূপে নাপাকি পতিত হয়, তা উঠিয়ে ফেলতে হবে। আর কূপের সমস্ত পানি
উঠিয়ে ফেলা কূপের পবিত্রতা। যদি কোন কূপে ইদুর, চড়ুই বা ছোট পাখি, টুনটুনি,
গিরগিটি অথবা টিকটিকি পড়ে মৃত্যুবরণ করে, তাহলে বালটির ছোট-বড় তারতম্য অনুযায়ী ২০
হতে ৩০ বালটি পানি কূপ হতে তুলে ফেলে দিতে হবে। আর যদি কবুতর, মুরগী অথবা বিড়াল
পড়ে মারা যায়, তবে ৪০ হতে ৫০ বালটি পানি তা হতে তুলে ফেলে দিতে হবে।
আর যদি কুকুর বা ছাগল বা মানুষ কূপে পড়ে মৃত্যুবরণ করে, তখন সমস্ত পানিই তুলে ফেলে দিতে হবে। মৃত প্রাণী যদি পানিতে ফুলে যায় অথবা ফেটে বা গলে যায়, তবে ছোট হোক বা বড় হোক সমস্ত পানিই ফেলে দিতে হবে। বালতির সংখ্যা গণনায় ধর্তব্য হবে মধ্যম ধরনের বালতি, যা শহরে কূপ সমূহে পানি উঠাতে ব্যবহৃত হয়। অতএব যদি বড় বালতি দ্বারা এমন পরিমাণ পানি উঠানো হয়, যা মধ্যম ধরণের বালতি সমূহে ধরে, তাহলে ঐ মধ্যম ধরণের বালতি দ্বারা উহার হিসাব করা হবে। আর যদি কূপ প্রবহমান হয়, যার সমস্ত পানি উঠানো সম্ভব নয় তখন অনুমান করে তাতে যে পরিমাণ পানি আছে তা ফেলে দেয়া অবশ্যই কর্তব্য। মুহাম্মদ ইবনে হাসান (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, এরূপ কূপ হতে দু’শত হথে তিনশত বালতি পানি ফেলে দিতে হবে। যদি কূপের ভিতর ইঁদুর বা অনুরূপ কিছু মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং কখন পড়েছে তা জানা যায়নি অথচ ফুলেনি এবং ফাটেওনি এ কূপের পানি দ্বারা ওযু করে থাকলে একদিন ও এক রাত্রের সালাত পুনরায় পড়তে হবে এবং যে সমস্ত জিনিসে ঐ পানি লেগেছে সে সমস্ত বস্তু ধুয়ে নিতে হবে। আর যদি ফুলে বা ফেটে যায়, তবে ইমাম আবু হানীফা (রঃ)-এর মতে, তিনদিন তিন রাতের সালাত পুনরায় পড়তে হবে। ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ (রঃ) বলেন, কখন পতিত হয়েছে তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কিছুই পুনরায় করতে হবে না।
আর যদি কুকুর বা ছাগল বা মানুষ কূপে পড়ে মৃত্যুবরণ করে, তখন সমস্ত পানিই তুলে ফেলে দিতে হবে। মৃত প্রাণী যদি পানিতে ফুলে যায় অথবা ফেটে বা গলে যায়, তবে ছোট হোক বা বড় হোক সমস্ত পানিই ফেলে দিতে হবে। বালতির সংখ্যা গণনায় ধর্তব্য হবে মধ্যম ধরনের বালতি, যা শহরে কূপ সমূহে পানি উঠাতে ব্যবহৃত হয়। অতএব যদি বড় বালতি দ্বারা এমন পরিমাণ পানি উঠানো হয়, যা মধ্যম ধরণের বালতি সমূহে ধরে, তাহলে ঐ মধ্যম ধরণের বালতি দ্বারা উহার হিসাব করা হবে। আর যদি কূপ প্রবহমান হয়, যার সমস্ত পানি উঠানো সম্ভব নয় তখন অনুমান করে তাতে যে পরিমাণ পানি আছে তা ফেলে দেয়া অবশ্যই কর্তব্য। মুহাম্মদ ইবনে হাসান (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, এরূপ কূপ হতে দু’শত হথে তিনশত বালতি পানি ফেলে দিতে হবে। যদি কূপের ভিতর ইঁদুর বা অনুরূপ কিছু মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এবং কখন পড়েছে তা জানা যায়নি অথচ ফুলেনি এবং ফাটেওনি এ কূপের পানি দ্বারা ওযু করে থাকলে একদিন ও এক রাত্রের সালাত পুনরায় পড়তে হবে এবং যে সমস্ত জিনিসে ঐ পানি লেগেছে সে সমস্ত বস্তু ধুয়ে নিতে হবে। আর যদি ফুলে বা ফেটে যায়, তবে ইমাম আবু হানীফা (রঃ)-এর মতে, তিনদিন তিন রাতের সালাত পুনরায় পড়তে হবে। ইমাম আবু ইউসুফ ও মুহাম্মদ (রঃ) বলেন, কখন পতিত হয়েছে তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কিছুই পুনরায় করতে হবে না।
No comments:
Post a Comment