অপবিত্রতার অধ্যায়
সালাত আদায়কারীর শরীর, কাপড় এবং সালাত পড়ার স্থান হতে অপবিত্রতা দূর করে
পবিত্র করা ওয়াজিব। পানি এবং প্রত্যেক প্রবাহিত পবিত্র জিনিস যদ্বারা অপবিত্রতা
দূর করা সম্ভব- এসব দ্বারা অপবিত্রতা দূর করে পবিত্র করা জায়েয, যেমন- সিরকা এবং
গোলাফের পানি। যদি কোন দৃশ্যমান অপবিত্রতা মোজার সাথে লেগে শুকিয়ে যায়, তবে তাকে
মাটির সাথে ঘর্ষণ করলে তা পরিধান করে সালাত পড়া জায়েয হবে। বীর্য নাপাক, উহা ভেজা
হলে ধৌত করা ওয়াজিব। আর যদি তা কাপড়ে লেগে শুকিয়ে যায়, তা নখ দ্বারা খুটিয়ে বা
ঘর্ষণ করে পৃথক করে দিলে যথেষ্ট হবে।
আয়না বা তরবারিতে অপবিত্রতা লেগে গেলে উভয়কে মোছে নিলে যথেষ্ট হবে। আর
অপবিত্রতা যদি মাটিতে লেগে শুকিয়ে যায় আর তার চিহ্নও দুরীভূত হয়ে যায়, তবে ঐ
স্থানের ওপর সালাত পড়া জায়েয। কিন্তু সে স্থানের মাটি দ্বারা তায়াম্মুম জায়েয হবে
না।
কোন ব্যক্তির শরীর বা কাপড়ে এক দিরহাম বা তার চেয়ে কম পরিমাণ গাঢ় অপবিত্রতা
যেমন- রক্ত, পেশাব, পায়খানা এবং মদ লেগে যায়, তাহলে এগুলোসহ সালাত পড়া জায়েয। আর
যদি এর চেয়ে বেশি হয়, তবে জায়েয হবে না। যদি কাপড়-চোপড়ে হালকা ওপবিত্রতা লাগে,
যেমন- সেসব জন্তুর পেশাব যাদের গোশত খাওয়া জায়েয এটা কাপড়ে এক চতুর্থাংশ পর্যন্ত
না পৌঁছলে তা সহ সালাত পড়া জায়েয। যেসব অপবিত্রতা ধৌত করা ওয়াজিব সেগুলো দু’ভাবে
পবিত্র করা যায়- (১) যেগুলোর আকৃতি দৃষ্টি গোচর হয় তার পবিত্রতা হল আকৃতি দূর হয়ে
যাওয়া। কিন্তু যদি উহার এমন কোন চিহ্ন বা দাগ অবশিষ্ট থেকে যায়, যা উটিয়ে ফেলা
অসম্ভব। (তাতে কোন ক্ষতি নেই।) (২) আর যেটা অবিকল পরিদৃষ্ট হয় না তার পবিত্রতা হল
এমনভাবে ধৌত করা যে, ধৌতকারীর স্থির ধারণা হয় যে, এখন পাক হয়েছে।
ইন্তিনজা (শৌচকার্য)করা সুন্নাত। পাথর, মাটির ঢিলা আর যা উহাদের
স্থলাভিষিক্ত হয় উহা দ্বারা ইন্তিনজা যথেষ্ট হবে। এগুলো দ্বারা এমন ভাবে মোছবে
যাতে পরিষ্কার হয়ে যায়। এতে কোন নির্দিষ্ট সংখ্যা সুন্নাত নয়, তবে উহা পানি দ্বারা
ধৌত করাই উত্তম। যদি অপবিত্রতা বের হবার স্থান অতিক্রম করে যায়, তবে পানি বা ঐ
জাতীয় প্রবাহিত জিনিস দ্বারা ধৌত না করলে (পাক) জায়েয হবে না। হাড়, গোবর,
খাদ্যবস্তু এবং ডান হাত দ্বারা ইস্তিনজা করবে না তথা এগুলো দ্বারা ইস্তিনজা জায়েয
নেই।
No comments:
Post a Comment