জামাআতের অধ্যায়



জামাআতের অধ্যায়

জামাআত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা। ইমামতের জন্য সে সর্বোত্তম, যে সুন্নাত তথা হাদীস ও মাসআলা সম্বন্ধে সর্বাধিক জ্ঞাত। যদি এতে সকলেই সমান হয়, তবে সর্বাধিক বিশুদ্ধ কুরআন পাঠকারী ব্যক্তি। যদি এ বিষয়ে সবাই সমান হয়, তবে সকলের মধ্যে যে পরহেজগার। যদি এতেও সবাই সমান হয়, তবে যে বয়সে সবচেয়ে বড় (সে ইমামতের জন্য উত্তম)। কৃতদাস, বেদুইন, ফাসিক, অন্ধ ও জারজ সন্তানকে ইমামতের জন্য সামনে দেয়া মাকরূহ। যদি তারা সামনে অগ্রসর হয়ে যায়, তবে জায়েয হবে। ইমামের উচি সে যেন মুকতাদীদের নিয়ে কিরাআত দীর্ঘ না করে। শুধু মহিলাগণ জামাআতে সালাত পড়া মাকরূহ।



যদি তারা এরূপ করে, তবে উলঙ্গ ব্যক্তেদের ন্যায় তাদের ইমাম মধ্যস্তলে দাঁড়াবে। আর কেউ যদি একজন মুকতাদী নিয়ে সালাত পড়ে, তাহলে তাকে নিজের ডান পার্শ্বে দাড় করাবে। আর যদি দু’জন হয়, তবে ইমাম সম্মূখে চলে যাবে। পুরুষের জন্য স্ত্রীলোক অথবা অপ্রাপ্ত বয়স্ক বালকের পিছনে একতেদা করা জায়েয হবে না। প্রথমে পুরুষগণ কাতার করবে, তারপর অপ্রাপ্ত বয়স্ক ছেলেগণ, তারপর হিজড়া (পুরুষও নয় নারীও নয়), তারপর মহিলাগণ। যদি কোন মহিলা কোন পুরুষের পার্শ্বে দাঁড়ায় আর উভয়ে একই সালাতে অংশীদার হয়, অর্থা একই সালাত পড়ে তাহলে পুরুষ ব্যক্তির সালাত নষ্ট হয়ে যাবে। জামাআতে উপস্থিত হওয়া মহিলাদের জন্য মাকরূহ। ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ)-এর মতে, ফজর, মাগরিব ও ইশার সালাতে বৃদ্ধা মহিলাদের উপস্থিত হওয়াতে কোন ক্ষতি নেই। ইমাম আবূ ইউসুফ ও মুহাম্মদ (রহঃ) বলেন, বৃদ্ধা মহিলাগণ সকল সালাতের জামাআতে বের হওয়া জায়েয। বহুমূত্র রোগীর পিছনে সুস্থ (পবিত্র) ব্যক্তি সালাত পড়বে না। পবিত্রা নারী মুসতাহাযা (অনবরত রক্ত প্রবহমান নারী) নারীর পিছনে, কারী উম্মীর পিছনে এবং পোশাক (কাপড়) পরিহিত ব্যক্তি উলঙ্গ ব্যক্তির পিছনে সালাত পড়বে না।



তায়াম্মুমকারী ওযূকারীদের এবং মোজার ওপর মাসাহকারী পা ধৌতকারীদের ইমামত করা জায়েয। দন্ডায়মানকারী উপবিষ্ট ব্যক্তির পিছনে সালাত পড়তে পারে। রুকু-সিজদাকারী ইশারাকারীর পিছনে সালাত পড়তে পারবে না। ফরয আদায়কারী নফল আদায়কারীর পিছনে সালাত পড়বে না। এক ফরয আদায়কারী ভিন্ন ফরয আদায়কারীর পিছনে সালাত পড়বে না। তবে নফল আদায়কারী ফরয আদায়কারীর পিছনে সালাত পড়তে পারবে। কোন ব্যক্তি ইমামের পিছনে একতেদা করার পর যদি জানতে পারে যে, সে অপবিত্র ছিল তবে মুকতাদী সালাত পুনরায় পড়বে। (মাকরূহসমূহ) মুসল্লি ব্যক্তি তার স্বীয় কাপড়-চোপড় অথবা শরীরের কোন অঙ্গ নিয়ে খেলা করা মাকরূহ। কণা সরাবে না, কিন্তু যদি তার ওপর সিজদা করা সম্ভব না হয়, তবে শুধু উহাকে একবার (সরিয়ে) সমান করে দেবে। আঙুলের মটকা ফুটাবে না। এক হাতের আঙুল অপর হাতের আঙুলের মধ্যে প্রবেশ করাবে না। কোমরে হাত দেবে না। কাপড় (কাঁধ বা মাথার ওপর) লটকিয়ে দেবে না, (ধুলাবালি হতে) টেনে নেবে না। চুল বাঁধবে না এবং ডান ও বামে দেখবে না। আর কুকুরের বসার মত বসবে না। মুখ ও হাত দ্বারা সালামের উত্তর দেবে না। কোন ওজর ছাড়া চার জানু হয়ে (আসন পেতে) বসবে না। খানা খাবে না এবং পান করবে না। যদি সালাতের মধ্যে ওযূ ভেঙে যায়, আর যদি সে ইমাম না হয়, তবে সালাত ছেড়ে দিয়ে ওযূ করে তার সালাতের ওপর ভিত্তি করে সালাত শেষ করবে। আর যদি সে ইমাম হয়, তবে একজনকে (টেনে) স্থলাভিষিক্ত বানিয়ে দেবে এবং ওযূ করে এসে প্রথম সালাতের ওপর ভিত্তি করে সালাত পড়বে, যে পর্যন্ত কোন কথা না বলে। তবে প্রথন হতে নতুন করে সালাত পড়া উত্তম। যদি কোন ব্যক্তি সালাতে নিদ্রা যায় এবং এই অবস্থায় স্বপ্নদোষ হয় অথবা পাগল হয়ে যায় বা বেহুঁশ হয়ে যায়, অথবা উচ্চৈঃস্বরে হেসে ওঠে, তবে এসব অবস্থায় ওযূ করে পুনঃ সালাত পড়তে হবে। আর যদি সালাতে ভুলে যায় বা স্বেচ্ছায় কথা বলে, তবে সালাত বাতিল হয়ে যাবে। যদি তাশাহূদ পরিমাণ বসার পর ওযূ চলে যায়, তবে শুধু ওযূ করে সালাম ফেরাবে। আর যদি এ অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে ওযূ নষ্ট করে অথবা কথা বলে অথবা এমন কাজ করে যা সালাতের বিপরীত, তাহলে সালাত পূর্ণ হয়ে যাবে। তায়াম্মুমকরী তার সালাত অবস্থায় পানি দেখলে তার সালাত বাতিল হয়ে যাবে। আর যদি তাশাহুদ পরিমাণ বসার পর পানি দেখে, অথবা মোজার ওপর মাসাহকারী ছিল (তাশাহহুদ পরিমাণ বসার পর) তখন তার মাসাহের মুদ্দাত শেষ হয়ে গেছে, অথবা আমলে কালীল দ্বারা (তখন) পা হতে মোজাদ্বয় খুলে যায়, অথবা সে উম্মি ছিল তখন কেবল একটি মাত্র সূরা শিখে ফেলেছে, অথবা উলঙ্গ ছিল তখন কাপড় পেয়েছে, অথবা ইশারায় সালাত আদায়কারী ছিল তখন রুকু-সিজদার ক্ষমতা লাভ করেছে, অথবা তখন স্বরণ হল যে তার ওপর পূর্বের এক ওয়াক্ত সালাত বাকি (কাযা) রয়েছে। অথবা তখন কারী ইমামের অযূ চলে যাবার পর উম্মিকে স্থলাভিষিক্ত বানিয়েছে, অথবা তখন ফজরের সালাতের মধ্যে সূর্য উদয় হয়ে গেছে, অথবা তখন জুমআর সালাতের মধ্যে আসরের সময় এসে গেছে, অথবা পটির ওপর মাসাহকারীর সে অবস্থায় পটি পড়ে গেছে, অথবা মুসতাহাযা ছিল তখন ভালো হয়ে গেছে, এসব অবস্থায় ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ)-এর মতে, সালাত বাতিল হয়ে যাবে, আর ইমাম আবূ ইউসুফ ও মুহাম্মদ (রহঃ) বলেন, এসব মাসআলায় তাদের সালাত পূর্ণ হয়ে যাবে।

No comments:

Post a Comment