সাহু সিজদার অধ্যায়
(সালাতের মধ্যে) কম বেশি হলে সাহু (ভুলের) সিজদা ওয়াজিব হয়। (এক দিকে)
সালাম ফেরাবার পর দুই সিজদা করবে, তারপর তাশাহুদ পড়বে এবং সালাম ফেরাবে। মুসল্লির
ওপর তখন ভুলের সিজদা ওয়াজিব হয়, যখন তার সালাতের মধ্যে সালাত জাতীয় এমন কাজ বৃদ্ধি
করবে যা সালাতের অন্তর্ভুক্ত নয়, অথবা কোন সুন্নাত (ওয়াজিব) পরিত্যাগ করলে, অথবা
সূরা ফাতিহা ছেড়ে দিলে, অথবা দোয়ায়ে কুনূত বা তাশাহহুদ কিংবা দুই ঈদের সালাতের
তাকবীরসমূহ ছেড়ে দিলে, অথবা যেসব সালাতে কিরাআত গোপনে পড়া হয় সেসব সালাতে
উচ্চৈঃস্বরে পড়ল বা উচ্চৈঃস্বরের সালাতে চুপে কিরাআত পড়ল। ইমামের ভুল মুকতাদীর
ওপরও সিজদা ওয়াজিব করে দেয়। যদি ইমাম সিজদা না করে, তবে মুকতাদীরাও সিজদা করবে না;
আর যদি মুকতাদী ভুল করে, তবে ইমাম মুকতাদী কারো ওপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে না। যে
ব্যক্তি প্রথম বৈঠক ভুলে গেল, তারপর এমন সময় স্মরণ হল যে, সে বসার অবস্থার দিকে
অতি নিকটবর্তী, তাহলে সে ফিরে এসে বসবে এবং তাশাহুদ পড়বে। আর যদি দাঁড়াবার অতি
নিকটবর্তী হয়, তবে ফিরে আসবে না (পরে) ভুলের সিজদা দেবে। আর যদি শেষ বৈঠকে ভুল করে
পঞ্চম রাকআতের দিকে দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে সিজদা না করা পর্যন্ত বসার দিকে ফিরে আসবে,
পঞ্চম রাকআতকে রহিত করে দেবে এবং সিজদায়ে সাহু দেবে এবং সিজদায়ে সাহু দেবে। আর যদি
পঞম রাকআতকে সিজদা দ্বারা বেঁধে ফেলে, তাহলে তার এ ফরয বাতিল হয়ে যাবে এবং এ সালাত
নফলে পরিণত হয়ে যাবে এবং তার ওপর ওয়াজিব হবে উহার সাথে ষষ্ঠ রাকআতকে মিলিয়ে নেয়া।
আর যদি চতুর্থ রাকআতে বসে তারপর দাঁড়িয়ে যায়, এ ধারণায় সালাম ফিরায়নি যে, এটা
প্রথম বৈঠক, তাহলে পঞ্চম রাকআতের সালাম ফেরাবার পূর্ব পর্যন্ত বসার দিকে ফিরে
আসবে, সালাম ফেরাবে এবং ভুলের সিজদা দেবে। আর সিজদা দ্বারা যদি পঞম রাকআতকে বেঁধে ফেলে, তবে তার সাথে আরো এক
রাকআত মিলিয়ে নেবে, এতে তার সালাত পরিপূর্ণ হয়ে যাবে, আর (শেষ) দুই রাকআত নফল হয়ে
যাবে। কোন ব্যক্তি যদি তার
সালাতে সন্দেহে পড়ে যে, সে জানতে পারে না
তিন রাকআত পড়েছে নাকি চার রাকআত আর এটাই তার জীবনে প্রথম ঘটনা, তাহলে সে সালাত
পুনঃ পড়বে। আর যদি এইরূপ ঘটনা তার ওনেক বার ঘটে থাকে, তাহলে সে প্রবল ধারণার ওপর
ভিত্তি করে সালাত পড়বে, যদি তার ধারণা হয়ে থাকে। আর যদি কোন প্রকার ধারণা না থাকে,
তাহলে দৃঢ় বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে (বাকি) সালাত আদায় করবে।
No comments:
Post a Comment