সালাতের রুকনসমূহের অধ্যায়
সালাতের ফরয ছয়টি-(১) তাকবীরে তাহরীমা, (২) দন্ডায়মান হওয়া, (৩)কিরাআত পড়া,
(৪) রুকু করা, (৫) সিজদা করা, (৬) শেষ বইঠকে তাশাহুদ পরিমাণ সময় বসা। আর এগুলোর অতিরিক্তগুলো
সুন্নত। যখন কোন মানুষ সালাতে প্রবেশ করার ইচ্ছা করে তখন (প্রথমে) আল্লাহু
আকবার বলবে এবং উভয় হাত এ পরিমাণ উঠাবে যেন বৃদ্ধাঙুলিদ্বয় কানের লতি বরাবর হয়। যদি
তাকবীরের পরিবর্তে ‘আল্লাহু আজাল’ অথবা ‘আল্লাহু আজম’ কিংবা ‘আররাহমানু আকবার’
বলে, তাহলে ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম মুহাম্মদ (রহঃ)-এর নিকট যথেষ্ট হবে। আর ইমাম
আবূ ইউসুফ (রহঃ) বলেন, ‘আল্লাহু আকবার’ বা ‘আল্লাহুল আকবার’ অথবা ‘আল্লাহুল কাবীর’
ব্যতীত অন্য কোন শব্দ বললে জায়েয হবে না। ডান হাত বাম হাতের ওপর নাভির নিচে রাখবে।
এরপর সুবহানাকা পড়বে, তারপর আঊযুবিল্লাহ এবং বিসমিল্লাহ নিচু স্বরে পড়বে। অতঃপর
সূরা ফাতিহা ও উহার সাথে একটি সূরা মিলিয়ে পড়বে, অথবা অন্য যে-কোন সূরা হতে ইচ্ছা
করে তিন আয়াত পড়বে। আর যখন ইমাম ‘অলাদ্দ-ল্লিন’ বলবে তখন ‘আমিন’ বলবে এবং মুকতাদীও
উহা নিচু স্বরে বলবে। তারপর তাকবীর বলে রুকু করবে এবং উভয় হাতকে হাঁটুর ওপর
শক্তভাবে রাখবে। উভয় হাতের আঙুলসমূহকে ফাক করে রাখবে এবং পিঠকে বিস্তৃত করে রাখবে,
আর মাথাকে উঁচু বা নিচু করে রাখবে না। সে তার রুকুতে তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল
আযিম’ বলবে। এ তিনবার হল নিম্নতম সীমা। অতঃপর মাথা উঠিয়ে ‘সামিয়াল্লাহু লিমান
হামিদা’ বলবে। মুকতাদী বলবে ‘রাব্বানা লাকাল হামদ’,এরপর সোজা হয়ে দাড়াবার পর
আল্লাহু আকবার বলে সিজদা করবে এবং উভয় হাত মাটিতে রাখবে, আর মুখমণ্ডলকে হস্তদ্বয়ের
মাঝে রেখে নাক ও ললাটের ওপর সিজদা করবে। শুধু নাক অথাবা ললাটের ওপর সিজদা করলেও
ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ)-এর নিকট জায়েয হবে। কিন্তু ইমাম আবূ ইউসুফ ও মুহাম্মদ (রহঃ)
বলেন, বিনা ওজরে শুধু নাকের ওপর সিজদা করা জায়েয হবে না। যদি পাকড়ির পেঁচের ওপর
অথবা অতিরিক্ত কাপড়ের ওপর সিজদা করে, তবে জায়েয হবে। বগলদ্বয় প্রকাশ করবে এবং
পেটকে উরুদ্বয় হতে দূরে রাখবে, আর উভয় পায়ের আঙুলগুলোকে কেবলামুখী করে রাখবে। সিজদাতে
তিনবার ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আ‘লা’ পড়বে। এটা হল নিম্ন সীমা। এরপর মাথা উত্তোলন করবে
এবং তাকবীর বলবে। যখন ভালোভাবে উপবেশন করবে তখন বলে সিজদা করবে। যখন স্থিরতার সাথে
সিজদা করবে, তখন আল্লাহু আকবার বলে উভয় পায়ের বক্ষ্যস্তলের ওপর বরাবর দাঁড়িয়ে
যাবে। বসবে না এবং হস্তদ্বয়ের দ্বারা মাটির ওপর ভর দেবে না। (তথা ভর দিয়ে উঠবে না)
দ্বিতীয় রাকাতেও অনুরূপ করবে যেরূপ প্রথম রাকআতে করেছ। কিন্তু ছানা ও আঊযুবিল্লাহ
পাঠ করবে না। আর প্রথম তাকবীর ব্যতীত হাতও উঠাবে না। দ্বিতীয় রাকআতের দ্বিতীয়
সিজদা হতে যখন মাথা উঠাবে, তখন বাম পা বিছিয়ে দিয়ে উহার ওপর বসে যাবে, আর ডান পাকে
খাড়া করে রাখবে এবং আঙুলগুলোকে কেবলামূখী করে রাখবে। উভয় হাতকে রানের ওপর
রাখবে এবং আঙুলগুলোকে ছড়িয়ে রাখবে। তারপর তাশাহহুদ পাঠ করবে।
আর তাশাহহুদ এটা বলা যে,
আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াসসালাওয়াতু ওয়াত্ব ত্বাইবাত। আসসালামু আলাইকা
আইয়ুহান্নাবীয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আসসালামু আলাইনা ওয়া‘আলা ইবাদিল্লাহিসসালিহীন।
আশহাদু আললা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসূলুহু।
প্রথম বৈঠকে এর বেশি বলবে না। শেষ দুই রাকআতে শুধু ফাতিহা পাঠ করবে। যখন সালাতের
শেষে বসবে তখন প্রথম বৈঠকের ন্যায় বসবে, তাশাহুদ পাঠ করবে এবং নবী করীম (সাঃ)-এর
ওপর দরুদ শরীফ পাঠ করবে, কুরআনের শব্দের সাদৃশ্য অথবা হাদীসে বর্ণিত দোয়া সমূহের
সাদৃশ্য যে কোন দোয়া ইচ্ছা পাঠ করবে। আর এমন দোয়া করবে না, যা মানুষের কথার সাথে
মিলে যায়। তারপর ডান দিকে সালাম ফিরাবে এবং বলবে, ‘আসসালামু আলাইকুম ওয়া
রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু’।এরপর বাম দিকে অনুরূপভাবে সালাম ফিরাবে।
ফজরের সালাতে, মাগরিব ও ইশার প্রথম দুই রাকআতে যদি ইমাম হয়, তবে উচ্চঃস্বরে
কিরাত পাঠ করবে এবং প্রথম দুই রাকআতের পরের রাকআত গুলোতে চুপে চুপে পড়বে। আর যদি
একাকী সালাত আদায়কারী হয়, তবে তার ইচ্ছাধিন, ইচ্ছা করলে উচ্চঃস্বরে পড়ে নিজেকে
শুনাতে পারে; ইচ্ছা করলে চুপে চুপেও পড়তে পারে। যোহর ও আসর সালাতে ইমাম কিরাআত
চুপে চুপে পড়বে। বিতির হল তিন রাকআত, এর মাঝখানে সালাম দ্বারা পৃথক করবে না। আর সারা বৎসর বিতিরের তৃতীয় রাকআতে রুকূর
পূর্বে দোয়ায়ে কুনূত পড়বে। বিতিরের প্রত্যেক রাকআতে ফাতিহা ও উহার সাথে অন্য যে কোন
একটি সূরা পাঠ করবে। আর যখন কুনূত পড়তে ইচ্ছা করবে, তখন তাকবীর বলে দুই হাত
উত্তোলন করবে, তারপর কুনূত পড়বে। বিতির ছাড়া অন্য কোন সালাতে কুনূত পড়বে না।
কোন সালাতের মধ্যে এমন কোন নির্দিষ্ট সূরা পাঠ
নেই যে উহা ছাড়া সালাত জায়েয হবে না। কোন সালাতের জন্য কোন সূরাকে এমনভাবে
নির্দিষ্ট করে নেয়া মাকরূহ যে, ঐ সূরা ব্যতীত অন্য কোন সূরা সে সালাতে পড়া হয় না।
ইমাম আবূ হানীফা (রহঃ)-এর মতে, সালাত বিশুদ্ধ হবার জন্য কমপক্ষে এই পরিমাণ কিরাআত
পড়তে হবে যাকে কুরআন বলা চলে। ইমাম আবূ ইউসুফ ও মুহাম্মদ (রহঃ) বলেছেন, ছোট তিন আয়াত অথবা বড় এক আয়াতের
কমে সালাত জায়েয হবে না। ইমামের পিছনে মুকতাদী কিরাআত পাঠ করবে না। যে ব্যক্তি কোন
ব্যক্তির পিছনে সালাত পড়তে ইচ্ছা করে সে দু’টি নিয়তের মুখাপেক্ষী হবে; সালাতের
নিয়ত ও একতেদার নিয়ত।
No comments:
Post a Comment